হার্ট ব্লক হওয়ার কারণ ও হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ - হার্ট ব্লক থেকে বাঁচার উপায়

 হার্ট ব্লক (Heart Block) হলো হৃদযন্ত্রের বিদ্যুৎ প্রবাহে বিঘ্ন ঘটার একটি অবস্থা, যা হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক গতি কমিয়ে দিতে পারে বা অনিয়মিত করে তুলতে পারে। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে ।



হার্ট ব্লক হওয়ার কারণ ও হার্ট ব্লক থেকে বাঁচার উপায় - হার্ট ব্লক হওয়ার লক্ষণ

কারণ

করোনারি আর্টারি ডিজিজ (CAD) ঃহৃদযন্ত্রে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হলে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বাড়ে।

হার্ট অ্যাটাক (Myocardial Infarction) ঃহার্টের টিস্যু নষ্ট হলে বৈদ্যুতিক সংকেত ঠিকভাবে প্রবাহিত হয় না।

কার্ডিওমায়োপ্যাথিঃ হৃদপিণ্ডের পেশী দুর্বল হলে বা পুরু হলে হার্ট ব্লক হতে পারে।

জন্মগত হৃদরোগঃ জন্ম থেকেই হৃদযন্ত্রের গঠনে কোনো ত্রুটি থাকলে এটি ঘটতে পারে।

শরীরে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা অতিরিক্ত কমে গেলে বা বেড়ে গেলে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেতে সমস্যা হতে পারে।

সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বেশি থাকে, কারণ বয়স বাড়ার সাথে সাথে হার্টের বৈদ্যুতিক পথ দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

হার্ট সার্জারির পর বা গুরুতর বুকের আঘাতের ফলে হার্ট ব্লক হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে জন্মগতভাবেই হার্ট ব্লকের সমস্যা থাকতে পারে, যা প্রজন্মান্তরেও আসতে পারে।

হাইপোথাইরয়েডিজম থাকলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম ধীর হয়ে গিয়ে হার্ট ব্লক হতে পারে।

লক্ষণ

হার্ট ব্লক হলো হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সংকেত সঠিকভাবে পরিচালিত না হওয়ার একটি অবস্থা। এটি তিনটি প্রধান ধাপে বিভক্ত: প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডিগ্রি হার্ট ব্লক। লক্ষণগুলো হার্ট ব্লকের ধরন ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে।

হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হওয়া (ধীর বা খুব দ্রুত চলা)

চোখে অন্ধকার দেখা বা মাথা ঘোরা

দুর্বলতা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করা

বুকে ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভব করা

শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

অনেক সময় হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া (Fainting / Syncope)

অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা মনোযোগের অভাব

 ১ম

সাধারণত তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।

ECG পরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে।

২য়

মাঝে মাঝে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যেতে পারে।

বুক ধড়ফড় করা বা অস্থিরতা অনুভব করা।

মাথা ঘোরা বা দুর্বল লাগা।

অনেক সময় সাময়িক অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

৩য়

হৃদস্পন্দন খুব ধীর হয়ে যায়।

অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।

জীবনঘাতী হতে পারে, দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন।

উপায়

শাক-সবজি, ফল, বাদাম, মাছ ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খান।

অতিরিক্ত চর্বি ও লবণযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ (স্যামন, টুনা) খেলে হার্ট ভালো থাকে।

জাঙ্ক ফুড, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন।

দৈনিক ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।

কম চর্বিযুক্ত ও উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খান।

প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম ও মাছ খান।

লবণ ও চিনি কম খান, কারণ এটি রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

ট্রান্স ফ্যাট ও প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন।

উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল হার্টের বৈদ্যুতিক সংকেতের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

নিয়মিত রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন।

যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

অতিরিক্ত ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন (বিশেষত যদি হার্টের কোনো সমস্যা থাকে)।

রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়মিত পরীক্ষা করুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিন।

লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার কমিয়ে দিন।

ধূমপান ও অ্যালকোহল হৃদযন্ত্রের সংকেত পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি করে।

এগুলো রক্তনালী সরু করে দেয়, যা হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বাড়ায়।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা হৃদরোগের অন্যতম কারণ।

মেডিটেশন, প্রার্থনা ও পর্যাপ্ত ঘুম মানসিক চাপ কমায়

প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ভালো ঘুম হার্টের সুস্থতা বজায় রাখে।

পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হার্টের বৈদ্যুতিক সংকেতে সমস্যা হতে পারে।

অতিরিক্ত ওজন হার্টের ওপর চাপ ফেলে, যা হার্ট ব্লকের ঝুঁকি বাড়ায়।

পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খান।

কলা, পালংশাক, বাদাম, দই, ডাল ও মাছ খান।

কিছু ওষুধ (যেমন: বিটা ব্লকার, ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার) হার্ট ব্লক সৃষ্টি করতে পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হৃদরোগের কোনো ওষুধ গ্রহণ করবেন না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এম এ এস ওয়ার্ড স্টোরি এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪